মাসিক স্রাব

প্রশ্নঃ মহিলারা হায়েয (মাসিক ¯্রাব) অবস্থায় পবিত্র কুরআন শরীফ শুনতে পারবে কি না?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মহিলারা হায়েয (মাসিক ¯্রাব) অবস্থায় পরিবত্র কুরআন শরীফ শুনতে পারবে। অবশ্য এ অবস্থায় পবিত্র কুরআন শরীফ স্পর্শ ও পড়তে পারবে না। [তথ্যসূত্র– ফাতওয়ায়ে শামী]
প্রশ্নঃ একজন মহিলার অভ্যাস হলো তার প্রতি মাসে প্রায় ৬ দিন করে মাসিক হয়। এক মাসে ৫ দিনের মাথায় আছরের নামাযের পূর্বে বন্ধ হয়ে যায়। তবুও নামায না পড়ে ৬ দিনের অপেক্ষায় থেকে ফজরের সময় মাসিক হয়নি দেখে গোসল করে নামায পড়েছে। কিন্তু যোহরের পূর্বে আবার রক্ত দেখা দেয়। জানতে চাই, ঐ মহিলা নামায পড়ার কারণে গুনাহগার হবে কি না?
উত্তরঃ পূর্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য সতর্কতামূলক গোসল করে পাক পবিত্র হয়ে নামায পড়ে নেয়া উচিত। কিন্তু এমতাবস্থায় সহবাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যেহেতু এখনো রক্ত আসার সম্ভাবনা আছে। তবে মহিলাটি তার পূর্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে যে নামায পড়েছে, তার জন্য গুনাহগার হবে না। বরং এটাই নিয়ম। উল্লেখ্য, যদি পূর্বের মেয়াদ শেষ হয়ে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সাথে সাথে গোসল করে নামায আদায় করবে। তখন গোসল করার পর অথবা মাসিক বন্ধ অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামায অতিবাহিত হওয়ার পর সহবাস করতে পারবে। [তথ্যসূত্র– ফাতওয়ায়ে আলমগীরী, বেহেশতী যেওর, ফাতওয়ায়ে রাহমানিয়া]
প্রশ্নঃ একজন মহিলার মাসিক ৬ দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। কোন কোন বার দেখা গেছে- প্রথম থেকেই সামান্য সামান্য ¯্রাব হয় এবং ১০ দিনের বেশী থাকে। বর্তমানে এটা একটা অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে যে, এ রকম স্বল্প স্রাব শুরু হলেই ঐ মাসে ১০ দিনের বেশী স্থায়ী হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় উক্ত মহিলার জন্য ৬ দিনের পর থেকেই মাসিক অবস্থাকালীন শরয়ী নিষেধাজ্ঞাগুলো উঠে যাবে, না কি সম্পূর্ণ ১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে?
উত্তরঃ উপরোক্ত অবস্থায় উক্ত মহিলাকে দশ দিন দশ রাত্রি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যদি ¯্রাব দশ দিন দশ রাত্রির চেয়ে অতিরিক্ত জারি থাকে, তাহলে পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী ছয় দিন হায়েয গণ্য হবে। আর সেই সুরতে ছয় দিন বাদ দিয়ে বাকী দিনগুলোর নামায, রোযা কাযা করতে হবে। আর যদি ¯্রাব দশ দিনেই বন্ধ হয়ে যায়, দশ দিনের বাইরে না যায়, তাহলে পুরো দশ দিনই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। [তথ্যসূত্র– ইমাদাদুল মুফতীন, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম, হিদায়া]
প্রশ্নঃ যদি কোন মহিলা কোরআনের শিক্ষিকা হয়, তাহলে হায়েজ (মাসিক) অবস্থায় তার কোরআন শরীফ পড়ানোর পদ্ধতি কি হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তরঃ হায়েজ অবস্থায় যেমনিভাবে কোরআন তিলাওয়াত করা না জায়েয, তদ্রুপ কাউকে শেখানোর উদ্দেশ্যেও পড়া নাজায়েয। তাই হায়েজ অবস্থায় যাতে মহিলা শিক্ষিকাদের কোরআন পড়াতে না হয় এ ব্যবস্থা রাখা জরুরী। এ ধরণের সুব্যবস্থা হওয়ার আগ পর্যন্ত হায়েয অবস্থায় যদি কখনো বাচ্চাদেরকে কোরআন শরীফ পড়ানো জরুরী হয়, তাহলে শব্দে শব্দে থেমে কিংবা বানান করে পড়াবে। এ ছাড়া নিজে মুখে উচ্চারণ না করে বাচ্চাদেরকে দিয়ে পড়িয়ে শুধু ভুল জায়গা ধরিয়ে দিতে পারবে। [তথ্যসূত্র–খুলাসাতুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, ফাতহুল কাদীর ]
প্রশ্নঃ হয়েজ অবস্থায় কুরআনের আয়াত লেখা জায়েয আছে কি না?
উত্তরঃ হয়েজ অবস্থায় কুরআনের আয়াত লেখা থেকে বিরত থাকা জরুরী। তবে একান্ত প্রয়োজন দেখা দিলে আয়াতের লিখিত অংশে হাত না লাগিয়ে লেখা যেতে পারে। [তথ্যসূত্র– ফাতহুল কাদীর, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া]

This entry was posted in মাসিক স্রাব. Bookmark the permalink.
//