পেশাব

প্রশ্নঃ দাঁড়িয়ে পেশাব করার হুকুম কী?
উত্তরঃ দাঁড়িয়ে পেশাব করা নিষেধ। তা বিজাতীয় ফ্যাশন। মুসলমানের জন্য তা গুনাহের কাজ। —সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার।
প্রশ্নঃ ছোট বাচ্চাকে পশ্চিমমুখী করে পেশাব-পায়খানা করানো যাবে কি না?
উত্তরঃ না ছোট বাচ্চাকেও পশ্চিমমুখী করে পেশাব-পায়খানা করানো যাবে না। তা নিষিদ্ধ। এতে যে করাবে তার গুনাহ হবে। তাই এ থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ কখনও কখনও পেশাব করার সময় পেশাবের ছিটা লুঙ্গী অথবা পায়জামায় লেগে যায় তখন নামাযের জন্য করণীয় কি? ঐ কাপড় পাল্টাতে হবে? না কি তা সহ নামায পড়া যাবে?
উত্তরঃ যদি পেশাবের ছিটা কাপড়ে লেগে যায়, আর তা সুচের মাথার ন্যায় ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র হয় তাহলে তা মাফ এবং কোন সমস্যা ছাড়াই নামায সহীহ হয়ে যাবে। আর যদি বেশী হয়ে আয়তনে অনূর্ধ্ব এক দেরহাম (হাতের তালুর মাঝের নিচু অংশ) পরিমাণ হয়ে যায় তাহলে ধুয়ে নেয়া ওয়াজিব। না ধুয়ে নামায পড়লে মাকরূহে তাহরীমীর সাথে নামায হয়ে যাবে, অবশ্য উক্ত নমায দ্বিতীয়বার পড়তে হবে। আর যদি এক দিরহামের চেয়ে বেশী হয় বা বিভিন্ন জায়গায় ছিটা লাগে আর তার পরমিান এক দিরহামের চেয়ে বেশী হয়ে যায় তাহলে তা না ধুয়ে নামায পড়া যাবে না। বরং উক্ত কাপড়ে নামায পড়তে চাইলে নাপাকী দূর করার জন্য তা ধুয়ে নেয়া ফরজ। তবে কেউ যদি কাপড়ের পেশাব লাগার স্থানটি ভুলে যায়, সুনির্ধারিত ভাবে বুঝতে না পারে যে, কাপড়ের কোন অংশে পেশাব লেগেছে , তাহলে চিন্তা-ফিকির করে একটি জায়গা নির্ধারণ করে ঐ জায়গাটি ধুয়ে নিবে। এভাবেও উক্ত কাপড় পাক হয়ে যাবে। কিšতু পরবর্তিতে যদি তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পেশাব অন্য জায়গায় লেগেছে, তাহলে ঐ কাপড় পরিধান করে যে কয় ওয়াক্ত নামায পড়েছে তা আবার পুনরায় পড়ে নিতে হবে। [ তথ্যসূত্র- ফাতওয়ায়ে আলমগীরী, আদ্দুররুল মুখতার, ফাতওয়ায়ে দারুল উলূম]
প্রশ্নঃ পরীক্ষার জন্য পেশাব ভর্তি বোতল পকেটে নিয়ে নামায আদায় করলে তা সহীহ হবে কি না?
উত্তরঃ না এ অবস্থায় নামায সহীহ হবে না। বরং পুনরায় নামায আদায় করতে হবে। ওয়াক্ত শেষ হয়ে থাকলে কাযা করতে হবে। [তথ্যসূত্র– শরহুল মুন্ইয়া]
প্রশ্নঃ অনেক সময় প্র¯্রাবের পর দীর্ঘ সময় তা ঝরতে থাকে, এতে জামাত ছুটে যাওয়ারও উপক্রম হয়, জানতে চাই এ অবস্থায় নামায পড়ার হুকুম কি?
উত্তরঃ প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী এমন ব্যক্তি মাজুর নয়। তাই তাকে পরিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করেই নামায আদায় করতে হবে। পবিত্রতা অর্জনের জন্য কিছু সময় ব্যয় হলেও পূর্ণ পাক না হয়ে জামাতে শরীক হতে পারবে না। উল্লেখ্য, এ অবস্থায় কোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরী। [তথ্যসূত্র– ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া]

This entry was posted in পেশাব. Bookmark the permalink.
//