আরো কতিপয় আকীদা সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করুন

নিম্নোক্ত কিছু আকীদা/বিশ্বাস সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হল।

  •  মে’রাজ সম্বন্ধে আকীদা ঃ মে’রাজ সম্বন্ধে আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলা একদা রাত্রে জাগরিত অবস্থায় স্ব-শরীরে মক্কা শরীফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত নিয়ে যান। সেখান থেকে সাত আসমানের উপর এবং সেখান থেকেও আরও উপরে যতদূর আল্লাহর উচ্ছা নিয়ে যান। সেখানে আল্লাহর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কথাবার্তা বলেন। তখনই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বিধান দেয়া হয় এবং সেই রাতেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবার দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন।
  •   আরশ কুরছী সম্বন্ধে আকীদা ঃ আরশ অর্থ আসন বা চেয়ার। আল্লাহর যেমন শান ওয়ালা তাঁর আরশ এবং কুরছীও তেমনই শানের হয়ে থাকবে। সপ্তম আসমানের উপর আরশ ও কুরছী অবস্থিত। হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী আরশ কুরছী এত বিশাল যে, তা সমগ্র আকাশ ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ পাক কোন মাখলূকের ন্যায় উঠা-বসা করেন না এবং তিনি কোন নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নন। মাখলূকের কোন কার্যকালাপ ও আচার-আচরণের সাথে আল্লাহর কোন কার্যকালাপ ও আচার আচরণের তুলনা হয় না। তারপরও তার আরশ কুরছী থাকার কি অর্থ, তার অনুধাবণ করা মানব জ্ঞানের উর্ধ্বে। আমাদেরকে শুধু আরশ কুরছী সম্বন্ধে আকীদা বিশ্বাস রাখতে হবে।
  •   আল্লাহর দীদার সম্বন্ধে আকীদা ঃ দুনিয়ায় থেকে জাগ্রত অবস্থায় এই চর্ম চক্ষুর দ্বারা কেউ মহান আল্লাহকে দেখতে পারেনি এবং পারবে না। তবে বেহেশতবাসীগণ বেহেশতে গিয়ে আল্লাহর দীদার বা দর্শন লাভ করবেন।
  •   কিয়ামতের আলামত সম্বন্ধে আকীদা ঃ কুরআন ও হদীসে কিয়ামতের কিছু ছোট ও কিছু বড় আলামতের কথা বর্ণিত হয়েছে। ছোট আলামতগুলো কিয়ামত আসা নিকটবর্তী হয়ে গেলে ও দুনিয়ার ধ্বংস হওয়ার সময় নিকটবর্তী হয়ে গেলে প্রকাশ পাবে। আর বড় আলামত গুলো হযরত মাহদীর আবির্ভাবের পর থেকে শুরু হবে।

ছোট আলামতগুলোর কয়েকটি হল- লোকেরা ওয়াকফের মালকে নিজের মাল মনে করবে, পুরুষ স্ত্রীর আবেদারী করবে, মায়ের নাফরমানী করবে, পিতাকে পর মনে করবে, বন্ধু-বান্ধবকে আপন মনে করবে, জলুমের ভয়ে জালিমের তাবেদারী করবে ইত্যাদি।

আর বড়গুলো কয়েকটি হল- মাহদীর আবির্ভাব, দাজ্জালের আবির্ভাব, আকাশ থেকে হযরত ঈসা আ. এর দুনিয়াতে অবতরণ ইত্যাদি।

  •   ঈছালে সাওয়াব সম্বন্ধে আকীদা ঃঈসালে সাওয়াব অর্থ সওয়াব পৌঁছানো। মুত মুসলমানদের জন্য কৃত নামায, রোযা, দান-সাদকা, তাসবীহ-তাহলীল, তিলাওয়াত ইত্যাদি শারীরিক ও আর্থিক ইবাদতের ছরয়াব পৌঁছে থাকে। এক মতে ফরয ইবাদতের দ্বারাও ঈসালে সওয়াব করা যায়। এতে নিজের যিম্মাদারীও আদায় হবে, মৃতও সাওয়াব পেয়ে যাবে।
  •   দুআর মধ্যে ওসীলা প্রসঙ্গে আকীদা ঃদুআ কবূল হওয়ার জন্য নবীদের বা কোন জীবিত বা মৃত নেককার লোকের ওসীলা দিয়ে কিংবা কোন নেক কাজের ওসীলা দিয়ে দুই করা জায়েয বরং তা মোস্তাহাব।
  •   জিন সম্বন্ধে আকীদা ঃআল্লাহ তায়ালা আগুনের তৈরী এক প্রকার জীব সৃষ্টি করেছেন, যারা আমাদের দৃষ্টির অগোচরে, তাদেরকে জিন বলে। তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ সবরকম হয়। তাদের সন্তানাদিও হয়। তাদের মধ্যে বেশী প্রসিদ্ধ এবং বড় দুষ্ট হল ইবলীস অর্থাৎ, শয়তান। জিন মানুষের উপর আসর করতে পারে।

সূত্র- আহকামে জিন্দেগী।

This entry was posted in ঈমান ও আকাইদ, ঈমান-আকীদা, কতিপয় আকীদা/বিশ্বাস. Bookmark the permalink.
//